বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

মঙ্গলবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল এবং এর পেছনে বেশ কিছু কারণ বিদ্যমান ছিল। সার্বিকভাবে, গতকাল ট্রেডাররা মূলত একটি প্রতিবেদনের দিকেই দৃষ্টি দিয়েছে—সেটি হচ্ছে জার্মানির মূল্যস্ফীতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন। যদিও আমরা এই প্রতিবেদনটিকে ইউরোর জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করি না, কারণ ইউরোর জন্য গোটা ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতির হার গুরুত্বপূর্ণ—একটি সদস্য দেশের প্রতিবেদন নয়। তবুও, জার্মানি যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম অর্থনীতি, তাই এমন প্রতিবেদন পুরোপুরি উপেক্ষা করা উচিতও নয়। ডিসেম্বর মাসে দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ২.৩% থেকে কমে ১.৮%–এ নেমে এসেছে। আপনি নিশ্চয়ই একমত হবেন যে—০.৫% পয়েন্টের এই হ্রাস বেশ তাৎপর্যপূর্ণ এবং অনেকের কাছেই এটি অপ্রত্যাশিত। তাহলে মূল্যস্ফীতি ২%–এর নিচে থাকার বিষয়টি কী ইঙ্গিত দেয়? মূলত, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) আবার মুদ্রানীতি নমনীয়করণ কার্যক্রম শুরু করতে পারে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূল্য সুদের হার হ্রাস যেকোনো কারেন্সির দরপতনের কারণ হিসেবে কাজ করে, যেকারণে আমরা গতকালই ইউরোর দরপতন প্রত্যক্ষ করেছি। এছাড়া, ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখন নিম্নমুখী প্রবণতা বিদ্যমান রয়েছে, তাই টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই দরপতনকে স্বাভাবিক বলে মনে করা যায়। তবে এই দরপতন দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আমরা মনে করি না। খুব শিগগিরই, অর্থাৎ আজ থেকেই মার্কিন শ্রমবাজার–সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে শুরু হবে, যেগুলোর ফলাফল মার্কিন ডলারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কেবলমাত্র একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1745–1.1755 লেভেল থেকে রিবাউন্ড করে, যার ফলে দিনেরবেলাতেই প্রায় ৫০ পয়েন্টের দরপতন ঘটে। ফলে, যদি নতুন ট্রেডাররা মূল্য লক্ষ্যমাত্রায় পুরোপুরিভাবে না পৌছালেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্রেডটি ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে থাকেন, তাহলেও তারা বেশ ভালো মুনাফা অর্জন করতে পেরেছেন।
বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে পূর্ববর্তী প্রবণতা পরিবর্তিত হয়ে বিয়ারিশে পরিণত হয়েছে, তবে সম্ভবত এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এই পেয়ারের মূল্য 1.1800–1.1830 লেভেল (যা দৈনিক টাইমফ্রেমে দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জের উপরের সীমানা) অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী যথার্থভাবে এই দরপতন হচ্ছে, এবং সম্ভবত 1.1400 লেভেল পর্যন্ত দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে। মার্কিন ডলারের জন্য সার্বিক মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও নেতিবাচকই রয়ে গেছে। সেজন্য, আমরা প্রত্যাশা করছি যে মধ্যমেয়াদে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শিগগিরই আবার শুরু হতে পারে।
বুধবার, নতুন ট্রেডাররা 1.1655–1.1666 লেভেল থেকে ট্রেড করতে পারে। এই এরিয়া থেকে এই পেয়ারের মূল্য রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1745–1.1754 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই এরিয়ার নিচে কনসোলিডেশন হয়, তাহলে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1584–1.1591–এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যায়: 1.1354–1.1363, 1.1413, 1.1455–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1550, 1.1584–1.1591, 1.1655–1.1666, 1.1745–1.1754, 1.1808, 1.1851, 1.1908, 1.1970–1.1988। বুধবার, ইউরোপীয় ইউনিয়নে মূল্যস্ফীতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এবং যদি এই প্রতিবেদনের ফলাফল অপ্রত্যাশিত হয়, তাহলে মার্কেটে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। এছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ADP, JOLTs, এবং ISM পরিষেবা সংক্রান্ত PMI প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মার্কেটে উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।