মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট
মঙ্গলবার GBP/USD পেয়ারের সামান্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে, যদিও ব্রিটিশ কারেন্সির ক্ষেত্রে এর জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য মৌলিক কারণ ছিল না। মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, ইউরোর দরপতনের মূল কারণ হিসেবে জার্মানির মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিবেচিত হচ্ছে, যা ২০২৬ সালে ইসিবির মুদ্রানীতি নমনীয়করণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই অনুমানের সত্যতা সম্পর্কে আজ উত্তর পাওয়া যাবে, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে ডিসেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যেকোনো অবস্থাতেই, জার্মানির মূল্যস্ফীতি ব্রিটিশ পাউন্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তবুও, ইউরো ও পাউন্ডের পুরনো আন্তঃসম্পর্কের ভিত্তিতে মার্কেটে এমন একটি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যখন একটি কারেন্সির মূল্য হ্রাস পায়, তখন প্রায়শই অন্যটির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা দেয়। টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে, ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখনও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা EUR/USD পেয়ারের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না। তবে আমরা মনে করি না, ইউরোর মূল্যের এই নিম্নমুখী প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদি হবে—বরং আমরা আশা করছি শীঘ্রই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফিরে আসবে এবং ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড উভয় কারেন্সির মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হবে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.3529–1.3543 লেভেল ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়, এবং মার্কিন সেশনে একই লেভেল থেকে নিচের দিকে রিবাউন্ড করে। অর্থাৎ, নতুন ট্রেডারদের জন্য শর্ট পজিশন ওপেন করার যুক্তিযুক্ত সুযোগ তৈরি হয়। দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য প্রায় ২০ পয়েন্ট হ্রাস পায়, যদি স্টপ লস ব্রেকইভেনে সেট করা হতো তাহলে এই সেল ট্রেডটি সহজেই ওপেন রাখা যেত।
বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ড লাইনের নিচে কনসোলিডেট করলেও, আমরা এখনো বাস্তবিক অর্থে কোনো নিম্নমুখী প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি না। মধ্যমেয়াদে ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সৃষ্টির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো মৌলিক কারণ নেই, তাই আমরা শুধুমাত্র এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টের প্রত্যাশাই করছি। পাশাপাশি, আমরা এখনও মনে করি যে ২০২৫ সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা পুনরায় শুরু হবে, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে GBP/USD পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 লেভেলে নিয়ে যেতে পারে।
বুধবার, নতুন ট্রেডাররা মঙ্গলবার গঠিত দুটি সেল সিগন্যালের ভিত্তিতে শর্ট পজিশন হোল্ড করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3437–1.3446 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি আবার 1.3529–1.3543 লেভেল থেকে রিবাউন্ড ঘটে, তাহলে তা নতুন করে শর্ট পজিশন ওপেন করার আরেকটি সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে যদি এই পেয়ারের মূল্য এই লেভেলের উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3574–1.3590 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে নিম্নলিখিত লেভেলগুলো থেকে ট্রেড করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3437–1.3446, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590, 1.3643–1.3652, 1.3682, 1.3763।
বুধবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, তবে যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, সেগুলো হচ্ছে ADP শ্রমবাজার–সংক্রান্ত প্রতিবেদন, JOLTs চাকরির শূন্যপদসংক্রান্ত প্রতিবেদন, এবং ISM পরিষেবা খাতের PMI সূচক। এই তিনটি প্রতিবেদনের ফলাফলই মার্কেটে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
