নভেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা মঙ্গলবার কিছুটা মন্থর হয়, যার কারণ হিসেবে ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যের পরিষেবা খাতের PMI প্রতিবেদনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। টানা অষ্টম মাসেও দেশটিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল, তবে প্রবৃদ্ধির গতি দুর্বল ছিল এবং নভেম্বরের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত (৫১.৪ বনাম ৫১.৩) ছিল। পাশাপাশি, প্রতিবেদনের চূড়ান্ত ফলাফলের প্রাথমিক পূর্বাভাসের (৫২.১) চেয়ে নিচে ছিল। নতুন অর্ডার ও পণ্য বিক্রির সহ–সূচকগুলো তুলনামূলকভাবে অপরিবর্তিত থাকলেও, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও অবনতি লক্ষ্য করা গেছে—টানা পনেরো মাসের ধরে এই খাতে কর্মসংস্থানের হার হ্রাস পাচ্ছে।

সার্বিকভাবে PMI প্রতিবেদনের ফলাফল পাউন্ডের জন্য খুব বেশি ইতিবাচক ছিল না, তাই এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরে পাউন্ডে সামান্য দরপতন হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। তবে কিছু সময় পরই আবার পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়। এর পেছনে সম্ভবত একটি কারণ উল্লেখযোগ্য, সেটি হচ্ছে পরিষেবার খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি, যা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে; মে মাসের পর থেকেই মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে, এবং মূল মুদ্রাস্ফীতিও নভেম্বরের তুলনায় আরও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। অতএব, সামগ্রিক চিত্রটি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (BoE)–এর দৃষ্টিকোণ থেকে মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হচ্ছে, কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে, আর মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বহাল রয়েছে; অর্থাৎ অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির হুমকি বিরাজ করছে।
গত ডিসেম্বরে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার কমিয়ে ৩.৭৫%–এ এনেছে, তবে আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির সদস্যদের ভোট ৪–৫-এ বিভক্ত ছিল, যা স্পষ্ট করে যে নীতিনির্ধারণে ঐকমত্যের অভাব রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা হকিশ বা কঠোর অবস্থানধারীরা হালে পানি পেয়েছে, ফলে এখন নীতিমালার ক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা কিছুটা কমে গেছে—যা পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে।
ফলে, বুধবার সকাল পর্যন্ত পাউন্ড মোটামুটি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখতে সক্ষম, তবে পরিস্থিতি পুরোটাই অনুকূলে নয়। সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে অস্থিরতার মাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে, কারণ আজ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ADP বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন, ISM পরিষেবা খাতভিত্তিক PMI এবং JOLTs চাকরির শূন্যপদ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনেক প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে, কারণ অর্থনৈতিক মন্থরতার লক্ষণ দিন দিন বাড়ছে। শুক্রবার প্রকাশিতব্য ডিসেম্বর মাসের অফিসিয়াল কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদনই মার্কেটে ট্রেডিং ভলিউমের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে, কারণ মূল ফলাফল পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি বা কম আসতে পারে, তাই বড় ধরনের চমক পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাউন্ডের মূল্য দীর্ঘমেয়াদি গড়ের উপরে অবস্থান করছে—যা পাউন্ডের আরও দর বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পূর্ববর্তী বিশ্লেষণে আমরা উল্লেখ করেছিলাম যে, পাউন্ডের মূল্য 1.3620–1.3640-এর রেজিস্ট্যান্স জোনের দিকে এগোবে—এই পূর্বাভাস এখনও বহাল রয়েছে। ডলারের তুলনায় পাউন্ড অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসের সাথে বছরটি শুরু করেছে এবং তিন মাস পরে এটির মূল্য আবার আগের উচ্চতায় পৌঁছেছে—যে লেভেলে এটি সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ফেডের বৈঠকের আগমুহূর্তে অবস্থান করছিল। কারেকশনের সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্য থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই GBP/USD পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্ট পুরোপুরিভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিতব্য অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূ–রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।