যেখানে ইউরো ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে মূল্য হারাচ্ছে, গতকাল ঠিক তখনই লিথুয়ানিয়া ইসিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের দৌড়ে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী রিমান্টাস সাডজিয়াসকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ৯ জানুয়ারি আবেদনের সময়সীমার আগে প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়—অর্থমন্ত্রীর পদে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে ২০১৫ সালে লিথুয়ানিয়ার ইউরোজোনে প্রবেশকালীন সময়ের ভূমিকা, ইউরোপীয় পর্যায়ে একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সাডজিয়াস বাল্টিক রাষ্ট্রটিকে ইউরো গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে তার বিভিন্ন মেয়াদের পাশাপাশি তিনি ইউরোপিয়ান কোর্ট অব অডিটর্স-এর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, এরপর ২০২৪ সালে পুনরায় ভিলনিয়াসে ফিরে এসে অর্থ মন্ত্রণালয় পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট লুইস দে গিন্দোস ২০২৪ সালের মে মাসে তার অনবর্ধিত আট বছর মেয়াদ শেষে দায়িত্ব ছাড়বেন। ইতোমধ্যেই ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লাটভিয়া নিজেদের পক্ষ থেকে প্রার্থী মনোনয়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, এবং পর্তুগালও এই প্রতিযোগিতায় অর্ন্তভুক্ত হতে পারে। অতীতে, ইসিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদটি ফ্রান্স, গ্রিস ও পর্তুগালের প্রতিনিধিদের দখলে ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রোয়েশিয়া বরিস ভুইচিচকে সমর্থন দিচ্ছে, এবং পর্তুগাল মারিও সেন্টেনো–কে সমর্থনের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে।
যদিও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো দুই দশক ধরে ইউরোজোনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং তারা এখন ২১ সদস্যবিশিষ্ট কারেন্সি ইউনিয়নের এক–তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে, তবে এখন পর্যন্ত সাবেক কমিউনিস্ট ব্লকের কোনো দেশের প্রতিনিধিই কখনও ইসিবির এক্সিকিউটিভ বোর্ডে জায়গা পাননি।
সাডজিয়াস বলেন, "শক্তিশালী ইউরো হচ্ছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ইউরোপীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়তা।" তিনি আরও যোগ করেন যে, ইসিবির গুরুত্ব এই জায়গাতেই নিহিত, এবং লিথুয়ানিয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময় করার অবস্থানে রয়েছে।
ইসিবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে কে বসবেন, সে বিষয়ে ১৯ জানুয়ারি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডেসহ আরও তিনজন বোর্ড সদস্যদের বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষার্ধে শেষ হবে।
EUR/USD পেয়ারের টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট
ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1715 লেভেলে নিয়ে যাওয়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত। এই পেয়ারের মূল্য এই লেভেলে গেলে 1.1740 লেভেলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। সেখান থেকে 1.1765-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও মার্কেট বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। সম্প্রসারিত লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1800-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের দরপতন ঘটে, তাহলে মূল্য 1.1670 লেভেলে থাকা অবস্থায় এটি ক্রয়ের চাহিদা দেখা যেতে পারে। সেখানে যদি যথেষ্ট ক্রেতারা সক্রিয় না হয়, তাহলে 1.1640–এ দরপতনের জন্য অপেক্ষা করা যেতে পারে, অথবা 1.1616 থেকে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।
GBP/USD পেয়ারের টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট
পাউন্ডের ক্রেতাদের এখন মূল্যকে 1.3500–এর নিকটবর্তী রেজিস্ট্যান্সে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত। এটি বাস্তবায়িত হলে, এই পেয়ারের মূল্য 1.3530 লেভেলের দিকে যেতে পারে; তবে এই রেঞ্জ ব্রেকআউট করে মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। সম্প্রসারিত লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3560 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে।
যদি এই পেয়ারের মূল্য কমে যায়, মূল্য 1.3470–এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে, সেটি বুলিশ পজিশনের উপর বড় ধরনের আঘাত আসবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3440 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এরপর দরপতন আরও প্রসারিত হয়ে মূল্য 1.3415 লেভেলে পৌঁছাতে পারে।