সোমবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

সোমবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যেরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছিল এবং এক্ষেত্রে এই পেয়ার EUR/USD পেয়ারের তুলনায় বেশি সফল হয়েছিল। 1.3643 লেভেল ব্রিটিশ কারেন্সির মূল্যের একটি শক্তিশালী সাপোর্ট লেভেল হিসেবে কাজ করছে, এবং এই লেভেলের সম্ভাবনা প্রায় ইউরোর মতোই প্রতিশ্রুতিশীল ছিল। গতকাল জানা যায় যে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত কানাডার বিরুদ্ধে নতুন করে শুল্ক আরোপ করতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অসন্তুষ্টির কারণটি বেশ স্পষ্ট: কানাডা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করছে এবং এমনকি বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিও স্বাক্ষর করছে! ট্রাম্প এই অন্যায় মেনে নিতে পারেননি, দেশটিকে "কমোডিটি হাবে" পরিণত হতে চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন এবং তা চীনের দখলে চলে যেতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেন। দেশটির উপর শুল্ক এখনও আরোপিত হয়নি, তবে মনে হচ্ছে ট্রাম্প তাঁর অভিযাগ সম্পর্কে অটোয়ার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছেন। মার্ক কার্নি ও তাঁর সহকর্মীদের প্রস্তাবিত সমাধান ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট না করতে পারলে, কানাডার উপর নতুন করে 100% শুল্ক আরোপ করা পারে। এটি ডলারের ওপর আরেকটি আঘাত হিসেবে কাজ করতে পারে, এবং আগামীকাল সন্ধ্যায় ফেডের বৈঠকের ফলাফল জানা যাবে—যেদিকে হোয়াইট হাউসও সজাগ দৃষ্টি রাখছে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য 1.3643–1.3652 এরিয়া থেকে তিনবার বাউন্স করেছে, এবং প্রতিটি বাউন্সই নতুন ট্রেডারদের কাছে একটি বাই সিগন্যাল হিসেবেই বিবেচিত হতে পারত। এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি শুরু হতে কিছুটা সময় নিয়েছে, তবে শেষপর্যন্ত ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য প্রায় 50 পিপস বৃদ্ধি পায়।
মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, তাই আমরা আগামী কয়েক সপ্তাহে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি। মধ্যমেয়াদে বৈশ্বিক পর্যায়ে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য কোনো ভিত্তি নেই, তাই ২০২৬ সালে ২০২৫ সালের শুরু থেকে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি, যা এই পেয়ারের মূল্যকে শিগগিরই 1.4000-এর দিকে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালা এখনও মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধিতে বাঁধা সৃষ্টি করছে।
মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3574-1.3590-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানের মূল্যের 1.3763-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য গুরত্বপূর্ণ লেভেলসমূহ 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3574-1.3590, 1.3643-1.3652, 1.3763, and 1.3814-1.3832। মঙ্গলবার, যুক্তরাজ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ADP থেকে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। আমরা এই প্রতিবেদনটিকে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করি না, তাই আজ সকল মনোযোগ ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকান্ডকে ঘিরে কেন্দ্রীভূত থাকবে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।