সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার বেশ কম সংখ্যক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এবং এর কোনোটিই উল্লেখযোগ্য নয়। আমরা কেবল দুইটি মার্কিন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করতে পারি—সাপ্তাহিক ADP কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং কনফারেন্স বোর্ড ভোক্তা আস্থা সূচক। উভয় প্রতিবেদনের ফলাফলই দিনেরবেলা ডলারের মূল্যের মুভমেন্টকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা বেশ কম। বর্তমানে পুরোপুরিভাবে ভিন্নধর্মী কারণগুলোর প্রভাবের মধ্যে ডলারের ট্রেড করা হচ্ছে। মঙ্গলবার জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ইউরোজোনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশের কথা নেই।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

মঙ্গলবারের প্রধান ইভেন্টগুলোর মধ্যে ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হতে পারে, তবে আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে বর্তমানে ইসিবির অবস্থান নিয়ে ট্রেডারদের মধ্যে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। সুতরাং লাগার্ডের বক্তব্যের প্রভাবে মার্কেটে কোনো বিস্ময়কর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে এমনটা ধারণা করা কঠিন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকান্ডই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা নতুন বছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে গতিশীল হতে শুরু করেছে। এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে হোয়াইট হাউস থেকে প্রতিদিন কিংবা দুই-এক দিন পরপর গুরুত্বপূর্ণ খবর আসতেই থাকবে। এই মুহূর্তে কানাডার বিরুদ্ধে 100% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনের সাথে বাণিজ্য কার্যক্রম নিয়ে কানাডার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন যে তার দেশ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করে, ঠিক যেমন অন্যান্য দেশগুলো করে। তবু ট্রাম্প মনে করেন অটোয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং চীন কানাডাকে "গিলে খেয়ে ফেলবে।" সার্বিকভাবে বলা যায়, হোয়াইট হাউসে "ট্রাম্পের অ্যাডভেঞ্চার" শো-এর একটি নতুন পর্ব আবির্ভূত হচ্ছে।
উপসংহার:
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে উভয় পেয়ারের ট্রেডিং করা হবে। আজ 1.1908 থেকে অথবা 1.1830–1.1837 রেঞ্জে ইউরোর ট্রেড করা যেতে পারে , যখন ব্রিটিশ 1.3643–1.3652 এরিয়ায় পাউন্ডের ট্রেডিং করা যেতে পারে। অবশ্য, এখন প্রতিদিনই ডলারের দরপতন হবে বিষয়টি এমন নয়—বিরতি, করেকশন ও পুলব্যাক থাকবে। তবু আমরা মধ্যমেয়াদে ইউরো ও পাউন্ড উভয়ের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি। ফলে সম্ভাব্যভাবে লং পজিশনগুলো শর্ট পজিশন তুলনায় বেশি প্রাসঙ্গিক হবে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।