সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে সেগুলো কোনোটিই প্রকৃতপক্ষে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপাতদৃষ্টিতে জার্মানি বা ইউরোজোনের জিডিপি সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হতে পারে। তবু আমরা নতুন ট্রেডারদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে মার্কেটে সাধারণত জিডিপি প্রতিবেদনের প্রভাবে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না। জার্মানির মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদকগুলোকেও আপেক্ষিকভাবে শর্তসাপেক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা যেতে পারে। উপরোক্ত প্রতিবেদন কেবল তখনই ইউরোর বিনিময় মূল্যের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে, যখন প্রকৃত ফলাফল পূর্বাভাসের তুলনায় ব্যাপকভাবে ভিন্ন হবে। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক মূল্য সূচক প্রকাশিত হবে, যা তুলনামূলকভাবে স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

শুক্রবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু নেই। ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক বুধবার রাতে সমাপ্ত হয়েছে এবং এই বৈঠকের ফলাফল ট্রেডারদের জন্য সহজেই পূর্বানুমানযোগ্য ছিল। যদিও জেরোম পাওয়েল মার্চে সুদের হার হ্রাসের সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবুও তা ডলারের পক্ষে কোনো সহায়ক প্রভাব ফেলেনি। বিগত 3–4 বছর ধরে ইউরো ও পাউন্ডের বিপরীতে আমেরিকান মুদ্রার দর সর্বনিম্ন লেভেলের কাছাকাছি রয়েছে। তাই আমাদের পূর্ণ প্রত্যাশা রয়েছে যে শীঘ্রই পুনরায় ইউরো ও পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধি শুরু হবে, যদিও করেকশন অব্যাহত থাকাটাও যৌক্তিক পরিস্থিতি হতে পারে। তবুও, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প কোথাও আক্রমণের নির্দেশ দেন, ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন বা আবার শুল্ক বাড়ান, তাহলে ডলার অবশ্যই প্রতিক্রিয়া দেখাবে। ডলারের অবস্থান এখন অনেকটাই দুর্বল রয়েছে এবং দৃশ্যমান কোনো সমর্থন নেই।
উপসংহার:
সপ্তাহের শেষ ডিনের ট্রেডিংয়ে প্রধানত টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে উভয় পেয়ারের ট্রেড করা হবে বলে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরো আজ 1.1908 থেকে ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3741-1.3751 এরিয়ায় ট্রেড করা যেতে পারে। অবশ্যই, প্রতিদিনই ডলারের দরপতন হবে বিষয়টি এমন নয়—বিরতি, করেকশন এবং পুলব্যাক থাকবে। তবে মৌলিক প্রেক্ষাপট যেকোনো মুহূর্তে ডলারের আরেকটি দরপতন ঘটাতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।