বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বৃহস্পতিবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল, যা এখন আর কারও কাছেই বিস্ময়কর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। টানা তিন সপ্তাহ ধরে মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে—প্রতিদিন না হলেও, প্রায়দিনই এটির মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল ইউরোজোন বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি; তাই আমরা আগের মতোই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে, বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতাটি মূলত মোমেন্টামভিত্তিক এবং অযৌক্তিক। সংক্ষেপে বলতে গেলে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই কেবল মোমেন্টামের ধারাবাহিকতায় মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে। আমাদের বিশ্বাস, এমনকি নতুন ট্রেডাররাও এটি বোঝেন যে, মার্কেটে টানা তিন সপ্তাহ ধরে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার বিষয়টি প্রভাব বিস্তার করবে অথচ একই সময়ে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়টি উপেক্ষিত থাকবে—এমনটা হতে পারে না। এছাড়া লক্ষ্যণীয় যে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। অবশ্য অদূর ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কমই, তবুও এটি শান্তি স্থাপনের পথে একটি পদক্ষেপ; আর শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা সৃষ্টি হলে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে মার্কিন ডলারের আকর্ষণ কমে যাওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও, এসব বিষয়ের কোনো তোয়াক্কা না করেই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দিনের প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377 সাপোর্ট এরিয়ার আশেপাশে সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হলেও তা থেকে কোনো মুনাফা পাওয়া যায়নি। আজকেও আপনি 1.1366–1.1377 এরিয়া থেকে ট্রেডিং চালিয়ে যেতে পারেন।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে —এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই; তবে ট্রেডাররা এখন মূলত ফেডারেল রিজার্ভের গৃহীত নীতিমালা ওপর মনোযোগ দিচ্ছে, যা এখন মার্কিন ডলারের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে অনুকূল হয়ে উঠেছে। মার্কেটের ট্রেডাররা অন্যান্য সকল বিষয় উপেক্ষা করে চলেছে।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1461–1.1474-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665, 1.1745–1.1754। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিউরেবল গুডস অর্ডার বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; এটিই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন এবং এটির ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজকের অন্যান্য সব প্রতিবেদন ও ইভেন্ট স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।